প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া-বিয়ে, ওসির আত্মহ্ত্যা!

 



প্রবাসীর স্ত্রী রুমানা আক্তার মিতু। স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় গিয়েছিলেন। থানায় আসা-যাওয়া করতে গিয়ে পরিচয় ওসি হাসানের সঙ্গে। পরিচয়ের দিন দিন গভীরতা বাড়ে। তাদের মধ্যে শুরু হয় অবাধ মেলামেশা। মিতুকে বিয়ে করেন ওসি। কিছুদিন পর তালাক। এরপর ওসির আত্ম হত্যা।

বগুড়ার গাবতলী থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হাসানের আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রী মিতু ওসিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন। মিতু সম্পর্কে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার প্রতিবেশীরা।

www.linkhaat.com

ওসি আবদুল্লাহ আল হাসানের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় মিতুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হঢ। আদালত আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে ও মিতুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কে এই মিতু
সাবেক সেনাসদস্য মোকছেদ আলীর মেয়ে মিতু। ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোনায়েম হোসেন সাগরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তখন মিতু পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে হিসাববিজ্ঞানে অনার্সে পড়তেন। বিয়ের বছর পর মিতু স্বামীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরে চলে যান। কয়েক মাস থেকে আবার দেশে ফিরেন। অবস্থান করেন স্বামীর পাবনার সুজানগরের বাসায়।

২০১৩ সালের ১৪ মার্চ তার একটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান ও তার হাত খরচের টাকা ঠিকমতো না দেওয়ার অভিযোগে মিতু সুজানগর থানায় স্বামী সাগরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগের সময় পরিচয় পাবনা সদর থানার তৎকালীন ওসি আবদুল্লাহ আল হাসানের সঙ্গে। পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মিতু তার স্বামীকে তালাক দেন। এর কয়েক মাস পর ৩ জুলাই ওসি হাসানের সঙ্গে বিয়ে হয় মিতুর। ৬ লাখ টাকা দেনমোহর রাখা হয়। মিতু ওসি হাসানেরও দ্বিতীয় স্ত্রী।

পরে মিতুর কথা ওসি হাসানের প্রথম স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া জানতে পারেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ওসির প্রথম স্ত্রী রাজশাহীতে থাকেন। মিতুর সঙ্গে বিয়ের পর ওসি হাসান পাবনা থেকে জয়পুরহাট ও পরে বগুড়ার গাবতলী থানায় বদলি হন। এই সময়ে তাদের মধ্যেও সম্পর্কের অবনতি হয়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি হাসান মিতুকে নোটারি পাবলিকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে তালাক দেন।

এরপরও মিতু আরো টাকার জন্য হাসানকে চাপ দিতেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। মিতু গত ১১ মার্চ বগুড়ায় যান। ওই সময় হাসান তাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করেন। হাসানের প্রথম স্ত্রী বগুড়ায় একেবারে চলে আসার কথা জানতে পেরে মিতু হাসানকে জানান, তিনিও ২৯ মার্চ বগুড়ায় আসবেন। সেদিনই পুলিশের কোয়ার্টারে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন হাসান।

ঘটনার দিন হাসানের প্রথম স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে রাজশাহী থেকে গাবতলীর উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ১০টার দিকে নাটোরের সিংড়ায় আসার পর হাসানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়। এরপর হাসানের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে গাবতলী থানায় যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীর আত্মহত্যার কথা।

পরে ওসি হাসানের প্রথম স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বাদী হয়ে ২৯ মার্চ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাটি করেন। এ মামলায় গাবতলী থানার পুলিশ পরদিন পাবনা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় মিতুর বাবা ও তাকে তাদের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রিন্ট করুন  আজও গাজায় একশ’ বার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

চুরির অপবাদ দিয়ে মহিলাকে গাছের সাথে বেধে অমানুষিক নির্যাতন

বাড়িতে ছাগল যাওয়ায় নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন