বাংলাদেশে ধর্ম ব্যবসা সম্পর্কে জানুন
. ধর্ম ব্যবসার কথা বলতে গেলেই প্রথমে উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। পীরের নামে, মাজারের নামে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পকেট লুট করা হয়। সরকার থাকে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। নিচে বেশ কয়েকটি মাজার ও পীরের কূকর্মের বিবরণ তূলে ধরলাম। অধিকাংশ তথ্যই বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় উঠে এসেছে যা নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

মাইজভান্ডার শরিফ(চট্টগ্রাম) - আমাদের বাংলাদেশে ভ্রান্ত আকীদাপন্থী নামধারী পীরদের মাঝে মাইজভান্ডারীর দরবার খুবই প্রসিদ্ধ। হিন্দুদের ধর্মগুরু ও তাদের মন্দিদের কার্যক্রমের অনুরূপ পরিচালিত হয় এসব দরবারগুলো।
হিন্দুদের মূর্তিপূজার মতই এসব দরবারে কবরপূজা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের মূর্তিদের ঘিরে যতগুলো রুসুম রেওয়াজ পরিচালনা করে হুবহু একই পদ্ধতির রুসুম রেওয়াজ এসব দরবারে পরিচালিত হয়।
যেমন
বর্তমান মূর্তিপূজকরা প্রধানত মূর্তিপূজায় ৪টি কাজ করে থাকেঃ
১. বছরে দু’বার মূর্তিকে কেন্দ্র করে বড় আকারের অনুষ্ঠান করে।
যথা- (ক) কালিপূজা (খ) দূর্গা পূজা।
. ছোট আকারের পূজা আরো অনেক হয়। কিন্তু সারাদেশব্যাপী ধুমধামের সাথে এ দু’টি পূজা পালন করে থাকে।
এসময় তারা মূর্তিকে ঘিরে যা করে তারা সারাংশ হলঃ
২. মূর্তির সামনে প্রদিপ জ্বালায়।
৩. মূর্তির নামে মান্নত করে ও পশু বলি দেয়।
৪. মূর্তির সামনে মাথা নত করে ও সেজদা করে।
কবর বা মাযার পূজারীরা যা করে কবরকে কেন্দ্র করেঃ
১. বছরে দু’বার বড় আকারে উরস ও ফাতেহা মাহফিল নামে অনুষ্ঠান করে পীর বা বুযুর্গদের কবরকে ঘিরে।
২. কবরের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলিত করে নিয়মিত।
৩. কবরে শায়িত বুযুর্গের নামে মান্নত ও কুরবানী করে।
৪. কবরকে সামনে নিয়ে দুআ করে, ক্ষেত্র বিশেষে মাথানত ও সেজদাও করে।
বিজ্ঞ পাঠকের কাছে আমার জিজ্ঞাসা-মূর্তিপূজকদের মূর্তিপূজায় যে কর্মাদী করে আর আমাদের দেশের মাজারও কবরপূজারীরা যা করে এর মাঝে কি কোন পার্থক্য আছে?
মাইজভান্ডারীদের মতেঃ
ক) তরীকত শরীয়ত থেকে ভিন্ন একটি বিষয়।
খ) বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জন্য শরীয়তের অনুসরণ করা জরুরী নয়।
গ) বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জন্যে নামায, রোযা ও অন্যান্য ইবাদত পালন করা অপরিহার্য নয়।
ঘ) বিশেষ ব্যক্তিবর্গের শরীয়ত ও কুরআন-হাদীস এবং সাধারণ মানুষের শরীয়ত ও কুরআন-হাদীস থেকে ভিন্ন।
ঙ) সাধারণ মানুষের জন্যে শরীয়তে মুহাম্মদীর অনুসরণও আবশ্যক নয়, বরং নিজের ইচ্ছেমত যে কোন ধর্মের অনুসরণ করলেই আখেরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে।
দেখুন- মাইজভান্ডারীর পীরের লেখা “বেলায়েতে মোতলাকা” গ্রন্থের ১৬, ১১৮, ১১৯-১২০ নং পৃষ্ঠা।
এমন সব কুফরী আকীদা আমলে ভরপুর এসব ভান্ডারী ও আটরশীদের দরবার।
তথ্য সূত্রঃ মাওলানা আব্দুল মালেক দামাত বারাকাতুহুর লেখা “তাসাওউফ তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ” গ্রন্থ।
চরমোনাই পীর (বরিশাল) – চরমনাই পীরের কথা তার নিজের জবানেই শুনুন, তিনি নিজেই বলছেনঃ
‘’আমিতো এখন আমাকেই চিনি না, আমি যে কে তাহাই আমি জানি না,
আমি কি জাতি, মুসলমান, না ইহুদী, না অগ্নিপুজক তাহাও বলিতে পারি না‘’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজারপ্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মা’শুক বা এস্কে এলাহী; পৃষ্ঠা নঃ ৯১
আপনি আপনার কুদরতি নজরে আমার দিকে চাহিয়া দেখুন,
আমি এখন আমি নাই,আমি আপনি হইয়াছি,
আর আপনি আমি হইয়াছেন;
আমি হইয়াছি তন, আপনি হয়াছেন জান” (নাউজুবিল্লাহ)
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ৫
তাই হে মাশুকে হাক্বীক্বী মাওলা! আপনিও আর একা থাকিতে না পারিয়া আমাদিগকে নিজ হাতে পয়দা করিয়া, নিজরুপ দেখাইয়া যখন আশেক বানাইয়াছেন, এখন কেন গোপন থাকিবেন? দয়া করিয়া দেখা দেন, প্রান তো মানে না গো”
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ১০-১১
নিরালা নির্জনে বসি প্রেম আলাপ করি গো”
তোমার বিচ্ছেদের আগুন যেন দোজখের আগুন!
আমি ভুল বলিয়াছি,
তোমার মতো সুন্দর মাশুকের জুদাইর অগ্নি সম কোন অগ্নি নাই।
তাই বলি, আর দূরে রাখিয়া আমারে জালাইও না গো ,
কত আর জ্বালাইবা, সহিতে পারি না গো”
আপনি বেপর্দা হইয়া আমার এই বাসায় আসুন’’
এখানে এই জালিম (চরমনাই পীর) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে তার ঘরে আসতে বলছে, তিনি আল্লাহ যিনি সমস্ত কিছুকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন তাকে পৃথিবীর সামান্যতম একটি ঘরে আসতে বলছে পীর সাহেব, আমি পূর্বেই প্রমান করেছি যে মহাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই পৃথিবীতে আসবেন না যার ফলে মুসা আলাইহি ওয়া সালাম আল্লাহকে দেখতে পারেন নি, এই পৃথিবীকে আল্লাহ তার মাখলুককে ধারন করার জন্য সৃষ্টি করেছেন আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা রয়েছেন আসমানের উপর আরশের উপর, এবং সেখানে থাকাটাই তার(আল্লাহর) শান, পীর সাহেবের কথাগুলো আমাকে হিন্দুদের আকীদার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, হিন্দুরা মনে করে যে, আমাদের প্রতিপালক মাঝে মাঝে এই পৃথিবীতে আসেন যাকে তারা(হিন্দুরা) ‘অবতার’ বলে থাকে, যদিও হিন্দু পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এই “অবতার” শব্দটি নিয়ে, যাই হোক হিন্দু ধর্মের কথা এখন বাদই দেই, সুতরাং এটি প্রমানিত হলো যে, পীর সাহেবের আকীদা আর হিন্দুদের আকীদা অনেকটাই কাছা-কাছি, এটা এটা হওয়া স্বাভাবিক, কেননা অগ্নিপূজক আর মূর্তিপূজক দের মধ্যে মিল অনেক, আর পীর সাহেব মুসলিম নাকি অগ্নিপূজক এটা তিনি(পীর সাহেব) জানেন না।
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার; প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মাশুক পৃষ্ঠা নঃ ২৪
যেমন- মজনু লাইলির জন্য,
জোলেখা ইউসুফের জন্য,
ফরহাদ শিরীর জন্য,
তবে আল্লাহ্ পাকের প্রেমিকগন
তাঁহার প্রেমে পাগল হইয়া বেহুস-বেকারারী করিতে পারিবে না কেন”
অর্থাৎ, পীর সাহেব ইউসুফ-জলেখার বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনীতে বিশ্বাস রাখেন, অর্থাৎ, পীর সাহেবের মতে ইউসুফ আলাইহি ওয়া সালাম জলেখার সাথে প্রেম করেছিলেন(নাউযুবিল্লাহ) কিন্তু বিয়ের পূর্বের এসব অবৈধ সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম, সুতরাং পীর সাহেব এর কথা অনুসারে বুঝা যাচ্ছে যে, ইউসুফ আলাইহি ওয়া সালাম হারাম কাজ করেছেন(নাউযুবিল্লাহ), এটি মূলত নবীদের উপর একটি চরম অপবাদ, কোন নবীই কবীরা গুনাহতে লিপ্ত ছিলেন না এবং আল্লাহর নাফরমানও ছিলেন না। আর লাইলী-মজনুর বানোয়াট কাহিনীতেও তিনি বিশ্বাসী!!! এই যদি হয় পীরের অবস্থা তাহলে মুরিদের কি অবস্থা হবে? চিন্তার বিষয়! অতঃপর পীর সাহেব আল্লাহর প্রেমে বেহুশ হওয়ার কথা বললেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পুত্রকে সেসকল লোকদের সাথে মিশতে নিষেধ করেছেন যারা জিকীরের সময় বেহুশ হয়ে যান (এহইয়াউস সুনান, পৃঃ ৩৭৫), সুতরাং যেমন কর্ম সাহাবীগন অপছন্দ করতেন ঠিক তেমন কর্মকেই পীর সাহেব সমর্থন করলেন, এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, পীর সাহেব সাহাবীদের পথে নেই, এটি হওয়া স্বাভাবিক কেননা পীর সাহেব কি মুসলিম না কাফির তা তিনি জানেন না!
আর সে যদি খোজা বা ধ্বজভঙ্গ হয়,
তবে কিছুতেই সে ঐ বিবির সঙ্গেমিলিতেপারিবে না।
ঠিক এইরুপ মনে করিবেন- যাহার রুহ খোজা বা মরা,
অর্থাৎ- মাবুদের প্রেম হইতে বঞ্চিত,
তাহার রুহ কিছুতেই মাবুদের সাথেমিলিতেপারিবে না” (নাউজুবিল্লাহ)
এই জালিম পীর আবারও স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাঝে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কে টেনে এনেছে, আবারও সেই চরম বেয়াদবী, এদের মত বেয়াদবদের বিচার আল্লাহ খুব ভাল ভাবেই নিতে জানেন, তিনি মহান, প্রজ্ঞাময়।
যথা অগ্নির তাছির গরম,পানির তাছির ঠাণ্ডা।
যদি স্ত্রীর গায়ে হাত দিলে শরীর গরম হইয়া উঠে,
মাশুকে হাকিকী আল্লাহ্ পাকের নামে কেন তাছির থাকিবে না?
(ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)
এই জালিম আবারও সু-স্পষ্ট ভাষায়, স্বামী-স্ত্রীর যৌন মিলনের সাথে আল্লাহকে তুলনা করলো, নারী-পুরুষের যৌন আকাংখাকে মহান আল্লাহর সাথে তুলনা করলো, স্ত্রীর সঙ্গে মিলনের উত্তেজনাকে আল্লাহর সঙ্গে নিয়ে লাগিয়েছে, আসলেই এই পীর হয় পাগল না হয় দুনিয়ার লোভ-লালসায় অন্ধ।
নাপাক শারাব(মদ) দ্বারাও জায়নামাজ রঙ্গিন করিয়া তাহাতে নামাজ পড়’’
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; খাছ পর্দা ও স্বামীর খেদমতঃ পৃষ্ঠা নঃ ৯-১০
তাঁরা হবে ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল-অমঙ্গল নির্ণয় করে না,
(জাহেলী যুগের ন্যায়) ঝাড়ফুঁক বা মন্তর দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না,
আর তাঁরা তাঁদের প্রতিপালকের উপর একমাত্র ভরসা রাখে।
বুখারী ৫৭০৫, ৫৭৫২, ৫৮১১, ৬৪৭২, ৬৫৪১, ৬৫৪২
মুসলিম ৩৭১-(২১৮)
সুত্রঃ কিতাবুত তাওহীদ ও এর ব্যাখ্যা- মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আয়-তামীমী; ব্যাখ্যাকারীঃ শায়েখ সালেহ বিন আবদুল আযীয আলে-শায়েখ ,অধ্যায়-২ পৃষ্ঠা নঃ ২৩-২৭
সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক এর রচনাবলী; আল-এছহাক পাবলিকেশন্স; বাংলাবাজার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৭; আশেক মা’শুক বা এস্কে এলাহী; পৃষ্ঠা নঃ ১১১
আমরা যারা মুসলিম আমাদের হিদায়াতের জন্য কুরআন ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানীই যথেষ্ট। চরমনাই পীরের শিরকী কিতাবের কোনই প্রয়োজন নেই। আর যেহেতু পীর সাহেব কোরআন এবং সুন্নাহকে সম্মান করেন না সেহেতু কোরআন খতম করার কথা বলবেনই বা কেন, তার তিনি তো জানেনই না যে তিনি মুসলিম নাকি কাফির!!!

Comments
Post a Comment